বিভিন্ন নির্দেশকের ভিত্তিতে বণিক বার্তা দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো থেকে সেরা ব্যাংক নির্বাচন করে। ২০১৩ সাল থেকে ব্যাংকের এ র্যাংকিং প্রকাশ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত ও প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এবার ত্রয়োদশ র্যাংকিং প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ দশমিক ৭৪ স্কোর পেয়ে দেশসেরা ব্যাংক নির্বাচিত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। মৌলিক সাতটি সূচকে মোট ৭০ নম্বরের মধ্যে এ স্কোর অর্জন করেছে ব্যাংকটি। আর এবার সেরা ব্যাংকের এ তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে সিটি ও প্রাইম ব্যাংক। এ দুটি ব্যাংকের স্কোর যথাক্রমে ৪৪ ও ৪১ দশমিক ২৯। ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়েও একই অবস্থানে ছিল বেসরকারি খাতের এ তিনটি ব্যাংক। তবে এবার ব্র্যাক ও প্রাইম ব্যাংকের প্রাপ্ত নম্বর কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে সিটি ব্যাংকের স্কোর সামান্য কমেছে।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি পেয়েছে ৪১ দশমিক শূন্য ৪ নম্বর। এর মাধ্যমে দেশসেরা ব্যাংকের তালিকায় প্রথমবারের মতো চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে তারা। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্যাংকটির এবারের প্রাপ্ত স্কোর ৩৯ দশমিক ৪৯।
সেরা ব্যাংকের তালিকায় এবার দুই ধাপ অবনমন হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির। গত বছরের র্যাংকিংয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা ইস্টার্নের অবস্থান এবার ষষ্ঠতে নেমেছে। অবশ্য ব্যাংকটির প্রাপ্ত নম্বর আগের বছরের মতো ৩৭-এর ঘরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ ইস্টার্ন ব্যাংকের তুলনায় পূবালী ও ডাচ্-বাংলা ২০২৫ সালের পারফরম্যান্সে ভালো নম্বর পাওয়ায় এগিয়ে গেছে।
এবারের র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় স্থান পাওয়া অন্য ব্যাংকগুলো হলো যমুনা (সপ্তম), উত্তরা (অষ্টম), এনসিসি (নবম) এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক (দশম)। এর মধ্যে যমুনা ব্যাংক ২০২৪ সালে ১২তম অবস্থানে ছিল। আর উত্তরা ব্যাংক প্রাপ্ত নম্বরে উন্নতি করলেও এবার র্যাংকিংয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে। ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়ে ১১তম স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংক এবার স্কোরের পাশাপাশি র্যাংকিংয়েও এগিয়েছে। দশম স্থান অর্জন করা শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের আগের বছরের অবস্থান ছিল ১৫তম।
সেরা ব্যাংকের তালিকার একেবারে শেষে অর্থাৎ ৩১তম স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। ৭০ নম্বরের মধ্যে প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি এ ব্যাংকটির প্রাপ্ত স্কোর ১-এরও কম (০.৯৩)। আর ৩০তম স্থানে রয়েছে এবি ব্যাংক। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ রয়েছে শেষ সাতের তালিকায়। এ সাত ব্যাংকের সবক’টিই অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কিংবা অলিগার্কদের হস্তক্ষেপ এবং অনিয়মের শিকার হয়েছে।
গত এক যুগ ধরে বণিক বার্তার প্রকাশ করা সেরা ব্যাংকের র্যাংকিং পর্যবেক্ষণ করে আসছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. মোস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিকভাবে সেরা ব্যাংক বাছাইয়ের বেশকিছু পদ্ধতি রয়েছে। এক্ষেত্রে বণিক বার্তা যে পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে, সেটি সর্বজনস্বীকৃত। আমরা দেখছি, ব্যাংক খাতে সুশাসনের তীব্র ঘাটতি ও অনিয়ম-দুর্নীতি সত্ত্বেও যে ব্যাংকগুলো ভালো থাকার চেষ্টা করেছে, সেগুলো র্যাংকিংয়ে এগিয়ে রয়েছে। আর যে ব্যাংকগুলোয় বিগত সময়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল, অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, সেগুলো র্যাংকিংয়ে একেবারে তলানিতে চলে গেছে। বাস্তবে সেটিই হওয়ার কথা।’
ড. মোস্তফা কে মুজেরী এক সময় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ছিলেন। তার পর্যবেক্ষণ মতে, দেশের কিছু ব্যাংক অনেক বেশি মুনাফা করছে। আবার খেলাপি ঋণও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। বিল-বন্ডের সুদহার বেশি আবার শতভাগ নিরাপদও। এ কারণে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ দিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারে না। কারণ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ না বাড়লে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে না, কর্মসংস্থানও তৈরি হবে না।
দেশের পুঁজিবাজারে এখন তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৩৬। এর মধ্যে গতবারের মতো এবারো র্যাংকিং তৈরিতে ৩১টি ব্যাংককে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত হওয়া এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে র্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরাবরের মতো এবারের র্যাংকিং তৈরিতেও বিভিন্ন করপোরেট রিসার্চ টিমের সহায়তা নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসি।
সারা বিশ্বে কোনো ব্যাংকের সক্ষমতা, পারফরম্যান্স ও প্রকৃত পরিস্থিতির চিত্র বিশ্লেষণে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড বা নির্দেশক ব্যবহার করা হয়। এগুলো হচ্ছে সম্পদের বিপরীতে আয় (রিটার্ন অন অ্যাসেট বা আরওএ), শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির বিপরীতে আয় (রিটার্ন অন ইকুইটি বা আরওই), খেলাপি ঋণের (এনপিএল) অনুপাত, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস), মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও বা সিএআর) ও শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফা (ওপিবি)।
গত কয়েক বছরে দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের বিবর্তন ঘটেছে। সুশাসন ও শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যাংক ক্রমে আরো বড় হচ্ছে। অন্যদিকে অনিয়ম ও সুশাসন ঘাটতির কারণে এক সময়ের শক্তিশালী অনেক ব্যাংক নিজেদের অবস্থান হারাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের কারণে শাখাভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। নতুন শাখা খোলার পরিবর্তে অনেক ব্যাংক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকিং সেবা বিস্তৃত করছে।
ব্যাংক খাতের বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের র্যাংকিংয়ে সূচক-নির্দেশক ও শীর্ষমানের সীমায় কিছু পরিবর্তন এনেছে বণিক বার্তা। এর মধ্যে ২০২৫ সালের র্যাংকিংয়ে শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফাকে আর সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। এর পরিবর্তে সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারকে (প্রভিশন কাভারেজ রেশিও বা পিসিআর) নতুন নির্দেশক হিসেবে র্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ক্ষেত্রে শীর্ষমান ১ হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে ২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
র্যাংকিংয়ে আরওএর ক্ষেত্রে শীর্ষমান নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ। একইভাবে আরওইর ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ, এনপিএলের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ, সিএআরের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, এনএভিপিএসের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা এবং পিসিআরের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশকে শীর্ষমান ধরা হয়েছে। আর প্রতিটি নির্দেশকের বিপরীতে সর্বোচ্চ স্কোর ধরা হয়েছে ১০। এক্ষেত্রে সাত নির্দেশকের জন্য মোট স্কোর বা নম্বর ৭০। পাশাপাশি নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস বাদ দিয়ে পাঁচ নির্দেশকেও র্যাংকিং তৈরি করে আসছে বণিক বার্তা। পাঁচ নির্দেশকে মোট স্কোর ধরা হয় ৫০।
নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস বাদে পাঁচটি নির্দেশকের ভিত্তিতে করা এবারের র্যাংকিংয়ে শীর্ষ পাঁচ ব্যাংক হলো যথাক্রমে ব্র্যাক, সিটি, প্রাইম, যমুনা ও পূবালী ব্যাংক। এ পাঁচ ব্যাংকের স্কোর যথাক্রমে ৩৪ দশমিক ২৪, ৩৩ দশমিক ৩১, ৩২ দশমিক ৭৫, ৩১ দশমিক ৫১ ও ৩০ দশমিক ১৬। র্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে থাকা বাকি ব্যাংকগুলো যথাক্রমে ইস্টার্ন, এনসিসি, ডাচ্-বাংলা, উত্তরা ও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক।
টানা তিন বছর র্যাংকিংয়ে অবনমনের পর ২০২২ সালে বণিক বার্তার র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে ব্র্যাক ব্যাংক। এরপর ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়ে ব্যাংকটি শীর্ষস্থান দখল করে। এবারেও সাত ও পাঁচ নির্দেশক—দুই র্যাংকিংয়েই শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। সাতটি সূচকে ৫০ দশমিক ৭৪ ও পাঁচ নির্দেশকে ৩৪ দশমিক ২৪ নম্বর পেয়েছে ব্যাংকটি।
সাত নির্দেশকে এবারের র্যাংকিংয়ে সিএআর, নিট মুনাফা, এনএভিপিএস ও সঞ্চিতি সংরক্ষণ—এ চারটিতেই প্রথম স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। অন্যদিকে আরওএতে দ্বিতীয়, এনপিএলে তৃতীয় এবং আরওইতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। ২০২৫ সালে রেকর্ড ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে ব্র্যাক ব্যাংক। বড় আকারের মুনাফার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হওয়ায় ব্যাংকটি অন্য সব ব্যাংক থেকে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে গেছে।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেশের সেরা ব্যাংকের স্বীকৃতি পাওয়াকে গৌরব ও মর্যাদার বলে জানান ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছি। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের হারও সর্বনিম্নে রাখতে পেরেছি। এ কারণে আমাদের ব্যাংকের সবক’টি সূচক সমৃদ্ধ হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের অর্জিত আরওই এবং আরওএ বৈশ্বিক ব্যাংকগুলোর মুনাফার মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের মূলধন সংরক্ষণের অনুপাতও দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।’
সাফল্যের ধারাবাহিকতা সামনের দিনেও ধরে রাখার আশাবাদের কথা জানান তারেক রেফাত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘সুশাসন, স্বচ্ছতা ও কমপ্লায়েন্সের সর্বোচ্চ অনুসরণের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক আজকের উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি বছর ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার আরো কমেছে। আমাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করছে। আশা করছি, চলতি বছরেও ব্র্যাক ব্যাংক তার সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সমর্থ হবে।’
গতবারের মতো এবারো র্যাংকিংয়ে ৭০ ও ৫০ উভয় স্কেলে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে সিটি ব্যাংক। সাত নির্দেশকে ২০২৫ সালের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ব্যাংকটির স্কোর ৪৪ এবং পাঁচ নির্দেশকে ৩৩ দশমিক ৩১। সাতটি নির্দেশকের মধ্যে এবার সিটি ব্যাংক আরওই ও সঞ্চিতি সংরক্ষণে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। নিট মুনাফায় দ্বিতীয়, আরওএতে তৃতীয় ও এনপিএল রেশিওতে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। তবে পিছিয়ে আছে এনএভিপিএস (পঞ্চম) ও সিএআর (অষ্টম) নির্দেশকে।
সিটি ব্যাংকের ধারাবাহিক সাফল্যের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন। টানা সাত বছর ধরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। সিটি ব্যাংকের সাফল্যের বিষয়ে মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘পরপর দুইবার বণিক বার্তার সেরা ব্যাংকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান পাওয়াটা আমাদের জন্য আনন্দের। এ স্বীকৃতিকে শুধু মুনাফা বা ব্যবসার আকারের মূল্যায়ন হিসেবে দেখলে হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবিলিটি রেটিং ২০২৪-এ আমরা একদম শীর্ষস্থানে ছিলাম, আর টানা পাঁচ বছর আমরা তাদের শীর্ষ ১০ টেকসই ব্যাংকের তালিকায় আছি। আমাদের প্রবৃদ্ধির ভিত সুশাসন ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিংয়ের ওপরে প্রতিষ্ঠিত।’
২০২৫ সালে সিটি ব্যাংকের নিট মুনাফায় ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানান মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা রেকর্ড ২ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা আর ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করি। একই সময় খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। আর প্রভিশন কাভারেজ অনুপাত বেড়ে দাঁড়ায় ১২৮ শতাংশে। আয়-ব্যয়ের অনুপাতও ৪৪ শতাংশে নেমে আসে। স্থানীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ব্যবসাও করেছি। আমি আশা করি, সার্বিকভাবে ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়লে আমরা আরো ভালো করব। আমার কাছে সেরা ব্যাংক হওয়ার অর্থ শুধু আজ ভালো করা না, আগামী দিনের ঝুঁকি সামলানোর সক্ষমতাও তৈরি করা। সেটাই আমরা করছি।’
আগের র্যাংকিংয়ের মতো এবারো দেশসেরা ব্যাংকের তালিকায় তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে প্রাইম ব্যাংক। সাত নির্দেশকে ব্যাংকটির স্কোর ৪১ দশমিক ২৯ এবং পাঁচ নির্দেশকে ৩২ দশমিক ৭৫। চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে ব্যাংকটি এ সূচকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। আর সিএআরের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির অবস্থান দ্বিতীয়। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরওইতে। আরওএর ক্ষেত্রে প্রাইম ব্যাংকের অবস্থান চতুর্থ। আর খেলাপি ঋণের সর্বনিম্ন হার ও সর্বোচ্চ নিট মুনাফায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। তবে এনএভিপিএসের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির অবস্থান ষষ্ঠ।
প্রাইম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফয়সাল রহমান বলেন, ‘বণিক বার্তার র্যাংকিংয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এটি আমাদের জন্য শুধু একটি র্যাংকিং নয়; বরং আরো ভালো করার দায়িত্ব ও অনুপ্রেরণা। এ স্বীকৃতি আমাদের পরিচালনা পর্ষদ এবং প্রতিটি সহকর্মীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে আমাদের গ্রাহকদের আস্থারও স্বীকৃতি। আমরা বিশ্বাস করি, আস্থা, শৃঙ্খলা ও উদ্ভাবনের ভিত্তিতে প্রাইম ব্যাংক ভবিষ্যতে আরো বড় অবদান রাখবে।’
এ শীর্ষ নির্বাহী আরো বলেন, ‘আমরা সবসময়ই টেকসই প্রবৃদ্ধি, শক্তিশালী মূলধন, সুশাসন, বিচক্ষণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং, অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা চালু করার মাধ্যমে আমরা আরো শক্তিশালী ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত ব্যাংক গড়ে তুলতে কাজ করছি।’
বণিক বার্তার র্যাংকিংয়ে ধারাবাহিক উন্নতি করছে পূবালী ব্যাংক। এবারের র্যাংকিংয়ে দেশের প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকটির অবস্থান চতুর্থ। এর আগে ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়ে পূবালীর অবস্থান ছিল পঞ্চম। প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক হলেও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে দেশে সর্বোচ্চ সাফল্যের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে পূবালী। সর্বনিম্ন খেলাপি ঋণের হারে ব্যাংকটি এখন দেশের শীর্ষ ব্যাংক। গত বছর শেষে পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ২০ শতাংশ, যা দেশের তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। চাহিদা অনুযায়ী সঞ্চিতি সংরক্ষণ করেও সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে ব্যাংকটি। আর নিট মুনাফা ও এনএভিপিএসের ক্ষেত্রে পূবালীর অবস্থান তৃতীয়। তবে ব্যাংকটি পিছিয়ে আছে আরওএ ও সিএআরের ক্ষেত্রে। উভয় ক্ষেত্রে ব্যাংকটির অবস্থান নবম। আরওইর ক্ষেত্রে পূবালীর অবস্থান সপ্তম।
সেরা ব্যাংকের র্যাংকিংয়ের চতুর্থ স্থান পাওয়াকে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও সুশাসনের ফল হিসেবে দেখছেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘গত তিন-চার বছর আমরা ব্যাংকের সবক’টি সূচকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি পেয়েছি। এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর ভর করে। ব্যাংক পরিচালনায় আমরা সুশাসন ও কমপ্লায়েন্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। এখন সে কাজেরই সুফল পাচ্ছি।’
মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, ‘পূবালী অনেক পুরনো ব্যাংক। এক সময় এটি সরকারি ব্যাংক ছিল। আমাদের সম্পদের আকারও অনেক বড়। অপেক্ষাকৃত নতুন ও ছোট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আমাদের আরওই-আরওএ তুলনা করলে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে না। আমরা সব সময় গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং করি। আমাদের ব্যাংকের সুদহারও তুলনামূলকভাবে কম। এত পুরনো ব্যাংক হওয়া সত্ত্বেও খেলাপি ঋণের সর্বনিম্ন হারে সবার সেরা হওয়া বেশি গর্বের। বণিক বার্তার স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা আরো উচ্চ অবস্থানে যেতে চাই।’
২০২৪ সালে ৭০ স্কেলের র্যাংকিংয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। কিন্তু এবারের র্যাংকিংয়ে ব্যাংকটি এক ধাপ এগিয়ে পঞ্চমে উঠে এসেছে। ব্যাংকটির শক্তির জায়গা এনএভিপিএস ও সিএআর। এ দুটি সূচকে ব্যাংকটির অবস্থান যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়। আর নিট মুনাফার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা। তবে খেলাপি ঋণের দিক থেকে ব্যাংকটির অবস্থান ১৪তম। সঞ্চিতি সংরক্ষণে পূর্ণ নম্বর পাওয়া ডাচ্-বাংলা আরওএতে ষষ্ঠ ও আরওইতে নবম স্থানে রয়েছে।
ইস্টার্ন ব্যাংক ২০২১ ও ২০২২ সালের সাতটি নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে প্রথম স্থানে ছিল। কিন্তু এরপর থেকে ব্যাংকটির অবস্থান কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়ে ইস্টার্নের অবস্থান ছিল চতুর্থ। কিন্তু এবারের র্যাংকিংয়ে ব্যাংকটি আরো দুই ধাপ পিছিয়েছে। কেবল সঞ্চিতি সংরক্ষণে সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও অন্য কোনো সূচকে শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারেনি ব্যাংকটি। তবে সর্বনিম্ন খেলাপি ঋণের হারে ব্যাংকটির অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। সর্বোচ্চ নিট মুনাফা ও আরওইর দিক থেকে ব্যাংকটির অবস্থান ষষ্ঠ। আরওএর ক্ষেত্রে ইস্টার্ন ব্যাংক অষ্টম, এনএভিপিএসের ক্ষেত্রে নবম ও সিএআরের ক্ষেত্রে ১১তম অবস্থানে রয়েছে।
এবারের র্যাংকিংয়ে বেশ উন্নতি করেছে যমুনা ব্যাংক। ৭০ স্কেলের র্যাংকিংয়ে ব্যাংকটির অবস্থান সপ্তম, এক্ষেত্রে প্রাপ্ত স্কোর ৩৭ দশমিক শূন্য ৪। তবে ৫০ স্কেলে এবার চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ব্যাংকটি। সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারে পুরো ১০ নম্বর পেয়েছে যমুনা ব্যাংক। তাছাড়া আরওইতে দ্বিতীয় এবং আরওএ ও সিএআরে ব্যাংকটি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। তবে কিছুটা পিছিয়ে আছে নিট মুনাফা (অষ্টম), এনপিএল (অষ্টম) ও এনএভিপিএসে (১২তম)।
যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মির্জা ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘ব্যাংক হলো ট্রাস্ট বা বিশ্বাসের ওপর দাঁড়ানো একটি প্রতিষ্ঠান। এজন্য আমানতকারীদের বিশ্বাস ও স্বার্থ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা চেয়েছি, যমুনা ব্যাংক কখনই যাতে তারল্য সংকটে না পড়ে। আর সেটি করতে গিয়ে বিনিয়োগ তথা ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ছিলাম। কোনোভাবেই যেন আমাদের হাত দিয়ে মন্দ বিনিয়োগ না হয়, সেটি নিশ্চিত করেছি। সব ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স মেনে চলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকায় আমাদের ব্যাংক এ গৌরবময় অবস্থানে আসতে পেরেছে।’
উত্তরা ব্যাংক সাতটি নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ৩৪ দশমিক ১৬ স্কোর পেয়ে এবার অষ্টম স্থান অর্জন করেছে। পাঁচ নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ব্যাংকটির অবস্থান নবম। উত্তরা ব্যাংক আরওএতে এবার শীর্ষে রয়েছে। আরওই এবং সিএআরে ব্যাংকটির অবস্থান চতুর্থ। তবে ব্যাংকটি নিট মুনাফা (সপ্তম), এনএভিপিএস (অষ্টম), এনপিএল (১২তম) ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারে (১৬তম) পিছিয়ে রয়েছে।
র্যাংকিংয়ে উন্নতি করেছে এনসিসি ব্যাংক। এবার সাত নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ব্যাংকটির অবস্থান নবম। আর পাঁচ নির্দেশকে আছে সপ্তম স্থানে। ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়ে এক্ষেত্রে ব্যাংকটির অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১১তম ও নবম। সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি এবারের র্যাংকিংয়ে সিএআর ও আরওএতে সপ্তম, আরওইতে অষ্টম এবং নিট মুনাফায় ও এনপিএলে নবম স্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। তবে পিছিয়ে আছে এনএভিপিএসে (১৪তম)।
এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিন বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে আমাদের ব্যাংক ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির পথে রয়েছে। কমপ্লায়েন্স ও সুশাসন মেনে আমরা ব্যাংক পরিচালনা করছি। এ কারণে আমাদের খেলাপি ঋণও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর আমাদের খেলাপি ঋণ কমেছে।’
সেরা ব্যাংকের তালিকায় এবার সাত ও পাঁচ—উভয় নির্দেশকেই পাঁচ ধাপ এগিয়ে দশম স্থান অর্জন করেছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক। ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়ে এক্ষেত্রে ব্যাংকটির অবস্থান ছিল ১৫তম। আরওএ ও আরওইতে দশম এবং এনপিএল ও নিট মুনাফায় ১১তম স্থানে থাকলেও ব্যাংকটি পিছিয়ে আছে সিএআর, এনএভিপিএস ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারের সূচকে।
বণিক বার্তার র্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয়াকে আনন্দের বলে জানান শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আজকের অবস্থানে আসতে আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আকারের দিক থেকে মাঝারি হলেও ট্রেড ফাইন্যান্স বা বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শাহ্জালাল দেশের শীর্ষ তিন-চারটি ব্যাংকের একটি। আর সর্বোচ্চ রফতানির ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এ ব্যাংকের সবচেয়ে ভালো দিক হলো এর পর্ষদ। এখানে চেয়ারম্যানের কোনো একক কর্তৃত্ব বা নেতৃত্ব নেই। পুরো পর্ষদ মিলেই ব্যাংকের যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে ব্যাংকটি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে।’
২০২৪ সালের দশম অবস্থান থেকে ২০২৫ সালের র্যাংকিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে ব্যাংক এশিয়া। এবারের সাত নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ১১তম স্থানে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া এবং স্কোর ২৯ দশমিক ৭৩। পাঁচটি নির্দেশকের ভিত্তিতে ব্যাংকটির অবস্থান ১২তম। সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি পূর্ণ নম্বর পেয়েছে। আর সিএআর ও নিট মুনাফার ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে ব্যাংকটি। তবে পিছিয়ে পড়েছে খেলাপি ঋণের হার, আরওএ, আরওই ও এনএভিপিএসের ক্ষেত্রে।
সাতটি নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে গতবারের নবম স্থান থেকে এবার ১২তম স্থানে নেমে গেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, অন্যদিকে পাঁচ নির্দেশকে এবার ব্যাংকটির অবস্থান ১৪তম। সাত নির্দেশকে ব্যাংকটির স্কোর ২৮ দশমিক ৪৮। সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারের দিক দিয়ে পূর্ণ নম্বর পেয়েছে এমটিবি। এনএভিপিএসে ১১তম ও নিট মুনাফায় ১২তম স্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। তবে কিছুটা পিছিয়ে আছে সিএআর, আরওএ, আরওই ও খেলাপি ঋণের হারে।
এবারের র্যাংকিংয়ে সাত নির্দেশকে ঢাকা ব্যাংকের অবস্থান ১৩তম। পাঁচ নির্দেশকেও ব্যাংকটির অবস্থান একই। সাত নির্দেশকে ব্যাংকটির স্কোর এমটিবির সমান, অর্থাৎ ২৮ দশমিক ৪৮। তবে চারটি নির্দেশকে পিছিয়ে থাকায় সমান স্কোর থাকা সত্ত্বেও র্যাংকিংয়ে ঢাকা ব্যাংক এমটিবির চেয়ে এক ধাপ নিচে রয়েছে। সঞ্চিতি সংরক্ষণে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি এনপিএলে সপ্তম স্থানে থাকা ঢাকা ব্যাংক বাকি পাঁচ নির্দেশকে কিছুটা পিছিয়ে আছে।
ট্রাস্ট ব্যাংক ২০২৪ সালের র্যাংকিংয়ে সাত নির্দেশকে অষ্টম ও পাঁচ নির্দেশকে পঞ্চম স্থানে ছিল। তবে ২০২৫ সালের র্যাংকিংয়ে ব্যাংকটি সাত ও পাঁচ নির্দেশকে যথাক্রমে ১৪ ও ১৫তম স্থানে নেমে গেছে। সাত নির্দেশকে ব্যাংকটির স্কোর ২৮ দশমিক শূন্য ৭। এনএভিপিএস ও খেলাপি ঋণে দশম স্থানে থাকা ট্রাস্ট ব্যাংক বাকি পাঁচ নির্দেশকে পিছিয়ে আছে।
মিডল্যান্ড ব্যাংক সাত নির্দেশকের ভিত্তিতে করা এবারের র্যাংকিংয়ে আছে ১৫তম স্থানে, পাঁচ নির্দেশকে ১১তম। সঞ্চিতি সংরক্ষণে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি সিএআর ও খেলাপি ঋণের হারে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করা মিডল্যান্ড ব্যাংক পিছিয়ে আছে আরওই, আরওএ, নিট মুনাফা ও এনএভিপিএসে।
এবার ৭০ ও ৫০ দুই স্কেলের র্যাংকিংয়েই ১৬তম স্থানে রয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। নিট মুনাফা ও সিএআরে ১৪তম স্থানে থাকা ব্যাংকটি বাকি পাঁচ নির্দেশকে কিছুটা পিছিয়ে আছে।
সাত নির্দেশকের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের র্যাংকিংয়ে ১৭তম স্থানে রয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, পাঁচ নির্দেশকে ব্যাংকটির অবস্থান ১৮তম। আরওই, এনএভিপিএস, নিট মুনাফা ও এনপিএলে ১৭, আরওএ ও সিএআরে ১৮ এবং সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারে ২১তম স্থানে রয়েছে ব্যাংকটি।
চতুর্থ প্রজন্মের এনআরবি ব্যাংক ২০২৫ সালের র্যাংকিংয়ে রয়েছে ১৮তম স্থানে। ৭০ স্কোরের মধ্যে ব্যাংকটি ১৪ দশমিক শূন্য ৮ নম্বর পেয়েছে। সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারে ১৭তম স্থানে থাকা ব্যাংকটি বাকি ছয় নির্দেশকে পিছিয়ে রয়েছে।
ওয়ান ব্যাংক এবারের র্যাংকিংয়ে সাত নির্দেশকে ১৯তম স্থান অধিকার করেছে, পাঁচ নির্দেশকেও ব্যাংকটির অবস্থান একই। সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারে ১৯তম অবস্থানে থাকা ব্যাংকটি পিছিয়ে আছে বাকি ছয় নির্দেশকে।
২০২৫ সালের সাত নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ২০তম স্থানে রয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। নিট মুনাফায় ১৮ এবং আরওএ ও আরওইতে ১৯তম স্থানে থাকা ব্যাংকটি পিছিয়ে আছে এনএভিপিএস, এনপিএল, সিএআর ও সঞ্চিতি সংরক্ষণে।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সাত নির্দেশকের ভিত্তিতে করা ২০২৫ সালের র্যাংকিংয়ে ২১তম স্থান দখল করেছে। আরওএতে ১৭ ও আরওইতে ১৮তম স্থানে থাকা ব্যাংকটি পিছিয়ে আছে বাকি পাঁচ নির্দেশকে।
এবারের সাত নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ২২তম স্থানে রয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। সিএআর ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারে ২০তম স্থানে থাকা ব্যাংকটি বাকি পাঁচ নির্দেশকে পিছিয়ে আছে।
এসবিএসি ব্যাংক ২০২৫ সালের র্যাংকিংয়ে ২৩তম স্থান অর্জন করেছে। মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাতের দিক দিয়ে ১৬তম স্থানে থাকলেও বাকি সব নির্দেশকে পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকটি।
২০২৫ সালের সাতটি নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ২৪তম স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), পাঁচ নির্দেশকেও ব্যাংকটির অবস্থান একই। এনএভিপিএসে ১৬ ও খেলাপি ঋণের হারে ১৮তম স্থানে থাকা ব্যাংকটি সঞ্চিতি সংরক্ষণের হার, নিট মুনাফা, সিএআর, আরওএ ও আরওইতে পিছিয়ে আছে।
সম্পদ ও দায়ের দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। এবারের র্যাংকিংয়ে ব্যাংকটি সাত ও পাঁচ নির্দেশকে ২৫তম অবস্থানে রয়েছে। এনএভিপিএসে চতুর্থ স্থান অর্জন করলেও বাকি নির্দেশকগুলোতে পিছিয়ে আছে ব্যাংকটি।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক রূপালী ২০২৫ সালের সাত নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ২৬তম অবস্থানে রয়েছে। এনএভিপিএসে সপ্তম স্থানে থাকলেও বাকি ছয় নির্দেশকে পিছিয়ে আছে ব্যাংকটি। প্রিমিয়ার ব্যাংক এবারের সাত ও পাঁচ নির্দেশকের র্যাংকিংয়ে ২৭তম স্থান অর্জন করেছে। সবগুলো নির্দশকেই ২৫ এবং তার চেয়েও পরের অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটি।
গত বছর র্যাংকিংয়ের একেবারে শেষে থাকা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ২০২৫ সালে সাত নির্দেশকের ভিত্তিতে করা র্যাংকিংয়ে ২৮তম স্থানে উঠে এসেছে। সঞ্চিতি সংরক্ষণের হারে ১৮তম স্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। সবগুলো নির্দেশকে পিছিয়ে থাকা আইএফআইসি, এবি ও ন্যাশনাল ব্যাংক এবারের র্যাংকিংয়ে যথাক্রমে ২৯, ৩০ ও ৩১তম স্থান পেয়েছে।